জনপ্রিয় ১২টি অনলাইন ইনকাম পদ্ধতি যেগুলো করে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন

অনলাইন ইনকাম

লেখাপড়া শেষ করার পর আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে চাকরি খোজা। অনেকেই আবার লেখাপড়ার পাশাপাশি চাকরি করে বা লেখাপড়া মাঝপথে ছেড়েই চাকরিতে প্রবেশ করে। এটা শুধু তাদের দোষ দিলেই হবে না। প্রয়োজনের তাগিদে তখন চাকরি করতে বাধ্য হয়। কিন্তু বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে চাকরি করার থেকেও রয়েছে ইনকামের অনেক পথ। অনলাইনে করার মতো রয়েছে হাজারো কাজ যেগুলো ঘরে বসেই করা যাবে। কিন্তু নতুন হিসেবে আমরা অনেক সময় কনফিউজ হয়ে যাই কোন কাজটি করবো, বর্তমানে কোন কাজটি করলে ক্যারিয়ার গড়া যাবে, ভবিষ্যতে কোন কাজটির চাহিদা বেশি থাকবে ইত্যাদি। আর এই কারনেই আজকের এই আর্টিকেলে আমরা জানবো জনপ্রিয় ১২টি অনলাইন ইনকাম পদ্ধতি সম্পর্কে যেগুলো করে একটি সুন্দর ক্যারিয়ার গড়া যাবে, আজীবন আয়ের পথ তৈরি করা যাবে, স্বাধীন জীবনযাপন করা যাবে।

তো চলুন শুরু করা যাক,

জনপ্রিয় ১২টি অনলাইন ইনকাম পদ্ধতি

১। ডিজাইনিং

আপনার যদি ডিজাইনিং ভালো লাগে তাহলে গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখতে পারেন। গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখে অনলাইনে একটি ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। ফটোশপ এবং ইলাস্ট্রেটর এই দুইটা সফটওয়্যারের ব্যবহার ভালোভাবে শিখে ডিজাইনিং শুরু করতে পারেন। শেখার পর আপনার ডিজাইনগুলো বিভিন্ন সফটওয়্যার মার্কেটপ্লেসে বিক্রি করতে পারবেন। ডিজাইন বিক্রি করার অন্যতম একটি ওয়েবসাইট হচ্ছে graphicriver এই ওয়েবসাইটে আপনার তৈরি লোগো, বিজনেস কার্ড, টিশার্ট ডিজাইন, ভেক্টর আর্ট ইত্যাদি বিক্রি করতে পারবেন। ডিজাইন করা জিনিসগুলো যখন কোনো বায়ার এসে কিনবে তাহলে আপনার একাউন্টে ইনকাম আস্তে থাকবে। যতবার বিক্রি হবে ততবার ইনকাম হতেই থাকবে।

এছাড়াও আপনার যদি কোডিং ভালো লাগে তাহলে ওয়েব ডিজাইন শিখতে পারেন। এটারও মার্কেটে চাহিদা অনেক। কারন প্রত্যেকটা ওয়েবসাইট তৈরি করার আগে প্রথমেই ডিজাইন করতে হয়। আর সেই ডিজাইনের জন্য মিনিমাম ১০০ ডলার থেকে ৫০০ ডলার পর্যন্ত পাওয়া যায়। আর তাই ডিজাইনিং সেক্টরে গ্রাফিক্স এবং ওয়েব ডিজাইন দুটিই অনলাইন ইনকাম করার জনপ্রিয় দুটি পন্থা।

২। ওয়েব ডেভেলপমেন্ট

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট করে আপনি অনেকভাবে অনলাইন থেকে ইনকাম করতে পারবেন।

  • ফ্রিলান্সিং করে
  • কোম্পানিতে ফিক্স জব করে
  • নিজের ডিজিটাল প্রোডাক্ট বিক্রি করে

আরো পড়ুনঃ

  1. ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট শেখার পরিপূর্ণ গাইডলাইন
  2. আমি কিভাবে ফ্রিতে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখলাম
  3. ওয়ার্ডপ্রেস শিখে কিভাবে লাখ টাকা ইনকাম করা যায়

১। ফ্রিলান্সিং করেঃ আপনি যদি ভালো করে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখতে পারেন তাহলে ফ্রিলান্সিং করেও একটি ভালো আয় করতে পারবেন। বর্তমানে এই ফ্রিলান্সিং সেক্টরে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর চাহিদা প্রচুর। কারন ফ্রিলান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজের তুলনায় ওয়েব ডেভেলপারদের পরিমান অনেক কম। প্রতিটা ওয়েবসাইট তৈরি করে দেয়ার বদলে ১০০ থেকে শুরু করে ১ হাজার ডলার পর্যন্ত পাওয়া যায়।

২। কোম্পানিতে ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে কাজ করেঃ তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে প্রায় প্রতিটি কোম্পানির ওয়েবসাইট রয়েছে। আর সেই ওয়েবসাইটগুলো পরিচালনা করার জন্য একজন দক্ষ ওয়েব ডেভেলপারের প্রয়োজন হয়। ওয়েবসাইটে কোনো এরর দেখা দিলে সেটা ফিক্স করা, ওয়েবসাইটে নতুন কন্টেন্ট পাব্লিশ করা, হ্যাকার থেকে ওয়েবসাইটকে নিরাপদ রাখা ইত্যাদি ব্যবস্থাপনা করার জন্য কোম্পানির একজন ওয়েব ডেভেলপার থাকে। তাই আপনি যদি একজন প্রফেশনাল ওয়েব ডেভেলপার হয়ে থাকেন তাহলে সেই কোম্পানিগুলোতে ফিক্স জব করতে পারবেন।

৩। ডিজিটাল প্রোডাক্ট বিক্রি করাঃ প্রোগ্রামিং জানা থাকলে বিভিন্ন ডিজিটাল প্রোডাক্ট তৈরি করা যেতে পারে। ওয়েবসাইটের জন্য টেম্পলেট, রেডিমেট ওয়েবসাইট ডিজাইন, ওয়েবসাইট থিম ইত্যাদি। এগুলো তৈরি করার পর বিভিন্ন ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস (যেমন Themeforest, Creative Market, Template Monster ইত্যাদি) বিক্রি করে একটি রয়ালিটি ইনকাম করা যায়। রয়ালিটি ইনকাম বলতে আপনি একটি প্রোডাক্ট একবার তৈরি করবেন কিন্তু যতবার প্রোডাক্ট বিক্রি হবে ততবারই ইনকাম আস্তে থাকবে।

৩। ইউটিউবিং

আপনি যদি নিজে কোনো কিছুতে দক্ষ হয়ে থাকেন তাহলে অন্যদের ভিডিও তৈরি করার মাধ্যমে শিখাতে পারেন। এর জন্য ইউটিউব সুন্দর একটি প্লাটফর্ম। এখানে একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলে নিজে যা পারেন তা অন্যদের শেখাতে পারেন। পরবর্তীতে যখন আপনার ওই ভিডিও অনেক মানুষ দেখবে তখন ইউটিউব আপনার ঐ ভিডিওগুলোতে এড দেখাবে। এবং এড থেকে যত ইনকাম আসবে তার ৬০% আপনি পাবেন। সেই টাকা আপনি ব্যাংক এর মাধ্যমে নিজের হাতে আনতে পারবেন।

এছাড়াও আপনি কোনো দর্শনীয় জায়গার ভিডিও করে ইউটিউবে আপলোড করে দিতে পারেন। সেখানে তো সবাই যেতে পারে না। কিন্তু অনেকে যেতে চায় বা দেখতে চায়। আপনি শুধু মোবাইল বা ডিএসএলআর ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও করে সেই ভিডিও ফুটেজ ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করে দিতে পারেন। পরবর্তীতে সেই ভিডিওর এড থেকে ইনকাম আস্তেই থাকবে যত মানুষ দেখবে।

আরো পড়ুনঃ

  1. কিভাবে একটি প্রফেশনাল ইউটিউব চ্যানেল খোলা যায় (মোবাইল এবং কম্পিউটার দিয়ে)

৪। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট

প্রোগ্রামিং ভাষা জানা থাকলে সফটওয়্যার তৈরি করা যেতে পারে। যেমন, মোবাইল এপ্স, ডেক্সটপের জন্য বিভিন্ন এপ্লিকেশন ইত্যাদি। শুধু প্রয়োজন একটি ভালো এবং ইউনিক আইডিয়া। সবসময় যে বড় সফটওয়্যার তৈরি করতে হবে এমন না। ছোট খাটো কিন্তু সিম্পলের মধ্যে একটি কাজের সফটওয়্যার তৈরি করতে পারলে সেই একটি সফটওয়্যার থেকেই আজীবন রিভিনিউ আস্তে থাকে। একটি টিম করে সবাই মিলে চিন্তা করলেই অনেক ক্রিয়েটিভ আইডিয়া বের হয়ে আসবে।

৫। মোবাইল এপ ডেভেলপমেন্ট

প্রোগ্রামিং ভাষা জানা থাকলে মোবাইল মার্কেটগুলোতেও রয়েছে ভালো ক্যারিয়ার। বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য স্মার্টফোন কোম্পানিগুলো নতুন নতুন মডেলের এন্ড্রয়েড, আইফোন বা উইন্ডোজ ফোন মার্কেটে ছাড়ছে। আর তাই আপনি যদি মোবাইল এপ ডেভেলপমেন্ট শিখতে পারেন তাহলে এই ফোনগুলোর জন্য প্রফেশনাল অ্যাপ তৈরি করতে পারেন।

এছাড়াও আপনার তৈরি এপ প্লেস্টোরে পাব্লিশ করে দিতে পারেন। যখন কেউ ডাউনলোড করবে তখন আপনার এপ থেকে কয়েকভাবে ইনকাম আস্তে থাকবে। এপের মধ্যে গুগল এড ইউস করে আয় করা যাবে, সাবস্ক্রিবসন বিক্রি করে আয় করা যাবে এবং গুগল থেকে প্রতি ডাউনলোডে একটি রিভিনিউ একাউন্টে জমা হবে।

এছাড়াও ফ্রিলান্সিং সেক্টরে মোবাইল এপ ডেভেলপমেন্ট এর চাহিদা প্রচুর রয়েছে। একেকটি এপ তৈরি করে দেয়ার মাধ্যমে ৫০০ থেকে ৫ হাজার ডলার পাওয়া যেতে পারে।

৬। ফটোগ্রাফি

আপনার যদি ছবি তুলতে ভালো লাগে তাহলে এই ছবি তোলাকেই আপনার ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে পারেন। যদি একটি DSLR ক্যামেরা থাকে তাহলে আপনি এখনি এই ফটোগ্রাফি শুরু করে দিতে পারেন। বর্তমানে ওয়েডিং ফটোগ্রাফি, ইভেন্ট ফটোগ্রাফি অনেক জনপ্রিয়। শুধু এই ওয়েডিং বা বিয়ে বাড়ির ছবি তুলে ইনকাম করা যায় এমন না। আপনি বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের ছবি তুলে সেগুলো অনলাইনে অনেক ওয়েবসাইটে বিক্রি করতে পারবেন। যেমন, ছবি বিক্রি করার অন্যতম একটি ওয়েবসাইট হচ্ছে, photodune, shutterstock, istock, pond5 ইত্যাদি।

অনলাইন ইনকাম করার উপায়

এই ওয়েবসাইটগুলোতে আপনার তোলা যেকোনো ছবি আপলোড করে দিতে পারেন তবে অবশ্যই ছবির কোয়ালিটি যেন ভালো হয় তাহলে বিভিন্ন দেশের ক্লাইন্ট ছবিটি পছন্দ করবে এবং তাদের প্রজেক্টের জন্য কিনে ফেলবে । এর ফলে আপনার একাউন্টে টাকা জমা হতে থাকবে। এছাড়াও নিজের ওয়েবসাইট খুলে সেখানেও ছবি বিক্রি করে ইনকাম করা যেতে পারে।

৭। এফিলিয়েট মার্কেটিং

অনলাইন ইনকাম করার জনপ্রিয় আরেকটি উপায় হচ্ছে এফিলিয়েট মার্কেটিং। এফিলিয়েট মার্কেটিং যদি আপনি ভালো করে শিখতে পারেন তাহলে লাখ লাখ টাকা ইনকাম করা কোনো ব্যাপারই না। এফিলিয়েট মার্কেটিং এ সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নিস বাছাই করা, কীওয়ার্ড রিসার্চ, কন্টেন্ট প্ল্যানিং। এই তিনটা বিষয় যদি আপনার ঠিক থাকে তাহলে প্রতি মাসে ৫০০ থেকে ১০০০ ডলার ইনকাম করা যেতে পারে। এবং একটি এফিলিয়েট ওয়েবসাইট ইনকামের থেকে ৩০ গুন দামে বিক্রি করা যায়।

পড়তে পারেনঃ

  1. এফিলিয়েট মার্কেটিং শেখার বই পিডিএফ ডাউনলোড

প্রথমে যেকোনো একটি নিস বাছাই করে কীওয়ার্ড রিসার্চ করতে হবে। এরপর সপ্তাহে ২ বা ৩ টি করে ওয়েবসাইটে কন্টেন্ট পাব্লিশ করতে হবে। যখন ভিজিটর আসা শুরু করবে ওয়েবসাইটে তখন একটি বা দুইটি এফিলিয়েট প্রোগ্রামে জয়েন হতে হবে।  বর্তমানে অনলাইনে প্রায় প্রত্যেকটি কোম্পানির এফিলিয়েট পার্টনার প্রোগ্রাম রয়েছে। তাই সেগুলোর থেকে জনপ্রিয় কতগুলো বাছাই করে একাউন্ট খুলে রাখতে হবে। পরে যখন আপনার ওয়েবসাইট থেকে রেফারেন্স হয়ে কোনো ভিজিটর প্রোডাক্ট কিনবে তখন একটি ভালো রিভিনিউ আস্তে থাকবে।

৮। ব্লগিং

ব্লগিং হচ্ছে একটি লেখালেখি করার পেশা। আপনার যদি লেখালেখি করতে ভালো লাগে তাহলে আপনি এই সেক্টরে কাজ করতে পারেন। যেকোনো একটি বিষয় ,যেটা আপনার ভালো লাগে বা এমন একটি বিষয় যেটা নিয়ে লেখালেখি করতে আপনি কোনো বোরিং হবেন না, সেটা নিয়ে ওয়েবসাইট খুলে লেখালেখি করাকেই ইন্টারনেটের ভাষায় ব্লগিং বলা হয়।

ব্লগিং করেও অনলাইন থেকে একটি সুন্দর আয়ের পথ তৈরি করা যায়। একটি ওয়েবসাইট খুলে নিজের মতো লেখালেখি করে ভিজিটরদের এড দেখিয়ে ইনকাম করা যায়। এডভারটাইজমেন্ট ছাড়াও আরো অনেক উপায় আছে ইনকাম করার। যেমন, এফিলিয়েট মার্কেটিং করে, স্পন্সরশীপ, নিজের প্রোডাক্ট করেও ইনকাম করা যায়। তবে শুরুর দিকে ইনকামের কথা চিন্তা করা যাবে না। প্রতিনিয়ত কাজ করে যেতে হবে। পরবর্তীতে মাস খানেক হয়ে গেলে যখন ওয়েবসাইট টি একটি ভালো পজিশনে চলে আসবে তখন এমনিতেই বিভিন্ন উপায়ে ইনকাম আস্তে থাকবে।

৯। ফটো এডিটিং

অনলাইন ইনকাম পদ্ধতির মধ্যে অন্যতম সহজ একটি কাজ হচ্ছে ফটো এডিটিং। আপনি যদি তুলনামুলকভাবে একটু সহজ কাজ করতে চান তাহলে ফটো এডিটিং দিয়ে শুরু করতে পারেন। প্রায় সব ক্ষেত্রেই ফটো এডিটিং করার প্রয়োজন হয়। যেমন, ইকমার্স ওয়েবসাইটে প্রোডাক্ট আপলোড করার আগে প্রোডাক্টের ছবি এডিট করতে হয়, ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড রিমোভ করতে হয়, প্রমোশনের জন্য ব্যানার বা স্লাইডার বানাতে হয় ইত্যাদি। আর এগুলো করার জন্য কোম্পানিদের একজন প্রফেশনাল ফটো এডিটরের প্রয়োজন হয়। সুতরাং আপনি যদি ফটো এডিটিং এ এক্সপার্ট হয়ে থাকেন তাহলে এটাকেই আপনার ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে পারেন।

১০। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন ( এসইও )

ওয়েব ডেভেলপাররা প্রতিনিয়ত ওয়েবসাইট তৈরি করছে আর সেই ওয়েবসাইটগুলো ইন্টারনেটে তালিকাভুক্ত হচ্ছে। কিন্তু একটি ওয়েবসাইট শুধু তৈরি করলেই হয় না। সেই ওয়েবসাইটের এসইও করতে হয় যাতে ভিজিটররা সার্চ করে সেই ওয়েবসাইটটি খুব সহজেই খুজে পায়। কিন্তু ওয়েবসাইট মালিকদের হাতে এত সময় থাকে না একটি ওয়েবসাইটকে এসইও করার জন্য। আর তাই তারা একজন এসইও এক্সপার্টকে হায়ার করে। এসইও বলতে বোঝায় কিছু কিওয়ার্ড দিয়ে ওয়েবসাইটটিকে সার্চ রেজাল্টের প্রথম পেজে নিয়ে আসা। যদি প্রথম পেজে আসে তাহলে গুগল থেকে অনেক অর্গানিক ভিজিটর পাওয়া যায়।

আর প্রতিটা কোম্পানি চায় তাদের ওয়েবসাইটটি যেন প্রথম পেজে থাকে। এই কারনে বর্তমানে এসইও এক্সপার্টদের বেশি চাহিদা। একজন এসইও এক্সপার্টকে কিছু বিষয়ে বেশি ধারনা রাখতে হয় যেমন কন্টেন্ট রাইটিং, কন্টেন্ট মার্কেটিং, অন পেজ এসইও, অফ পেজ এসইও, লিঙ্ক বিল্ডিং, বেসিক ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট। আর এই কারনেই একেকটি ওয়েবসাইট এসইও করার জন্য মাসে ৫০০ থেকে ১০০০ হাজার ডলার পর্যন্ত পাওয়া যায়। এসইও জানলে অনেকভাবে ইনকাম করা যায় যেমন, ফ্রিলান্সিং করে, কোনো কোম্পানিতে ফিক্স জব করে তাদের ওয়েবসাইট এসইও করে, নিজের ওয়েবসাইট এসইও করে ইত্যাদি।

১১। এনিমেশন বা মোশন গ্রাফিক্স

আমরা ইউটিউবে কোনো ভিডিও দেখলে সেখানে ভিডিওর প্রথম দিকে চ্যানেল ইন্ট্রো দেখতে পাই। আবার ভিডিওর শেষে আউটড্রো দেখতে পাই। এছাড়াও সাবস্ক্রাইব বাটন এনিমেশন দেখতে পাই। আবার অনেক সময় টেলিভিশনে প্রোডাক্ট প্রমোশনাল ইন্ট্রো দেখা যায়। এগুলোকেই মোশন গ্রাফিক্স বলা হয়। যারা মোশন গ্রাফিক্স ডিজাইনার তারাই সাধারণত এগুলো তৈরি করে থাকে। আপনার যদি এনিমেশন ভালো লাগে তাহলে এই সেক্টরে কাজ করতে পারেন। একজন প্রফেশনাল মোশন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হওয়ার জন্য আপনাকে কিছু সফটওয়্যারের ব্যবহার ভালোভাবে শিখতে হবে যেমন, ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর, প্রিমিয়ার প্রো, আফটার ইফেক্ট। ফ্রিলান্সিং মার্কেটপ্লেসে ৫ থেকে ৭ সেকেন্ডের একটি এনিমেশন ভিডিও তৈরি করতে ১০০ থেকে ৩০০ ডলার পর্যন্ত পাওয়া যায়। তবে কম বেশি হতে পারে এটা স্কিল এবং এক্সপিরিয়েন্স এর উপর নির্ভর করে।

১২। ডিজিটাল মার্কেটিং

বর্তমানে অনলাইন জগতে ডিজিটাল মার্কেটিং এর জয়জয়কার। অনলাইনে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করার জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং এর ভূমিকা অপরিহার্য। অনলাইনে প্রায় প্রত্যেকটা কাজে ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রয়োজন হয়। আপনি একটু লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন প্রায় প্রত্যেকটি কোম্পানির সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজনেস পেজ বা একাউন্ট আছে। সেখানে তারা তাদের প্রোডাক্ট বিক্রি করার জন্য প্রমোশন করে থাকে, বিভিন্ন সময়ে এড ক্যাম্পেইন চালু করে। এছাড়াও প্রোডাক্ট সম্পর্কে কাস্টমারদের থেকে ফিডব্যাক নেয়া, কাস্টমারদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয়া ইত্যাদি করে থাকে। আর এগুলো করার জন্য একজন ডিজিটাল মার্কেটার প্রয়োজন হয় যারা কোম্পানির হয়ে মার্কেটিং এর কাজ করবে অনলাইনকে ব্যবহার করে।

আরো পড়ুনঃ

  1. ডিজিটাল মার্কেটিং কি? এটা শিখে কিভাবে ক্যারিয়ার গড়া যায়?
  2. ডিজিটাল মার্কেটিং শেখা কিভাবে শুরু করতে হয়?

এর পাশাপাশি ফ্রিলান্সিং সেক্টরেও ডিজিটাল মার্কেটিং এর চাহিদা প্রচুর। বিশ্বের বড় বড় কোম্পানিরা ফ্রিলান্সিং মার্কেটপ্লেসে এসে তাদের কোম্পানির প্রমোশনের জন্য ডিজিটাল মার্কেটার হায়ার করে। বিনিময়ে মাস শেষে ৫০০ থেকে ৬০০ ডলার পর্যন্ত বেতন দেয়।

তো এই ছিলো বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় ১২টি অনলাইন ইনকাম পদ্ধতি যেগুলোর এক বা একাধিক সেক্টরে কাজ করে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। এগুলো ছাড়াও অনলাইন থেকে ইনকাম করার আরো অনেক উপায় রয়েছে। রিসোর্সে একটু সময় দিলেই আরো অনেক উপায় বের হয়ে আসবে। তবে অবশ্যই এমন একটি সেক্টর বাছাই করতে হবে যেটাতে কাজ করতে আপনার ভালো লাগবে, কোনোরকম বোরিং ফিল হবে না। যাইহোক, যদি কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই নিচে কমেন্ট করে জানাবেন। আমি উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবো।

এছাড়াও আপনি যদি ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ওয়ার্ডপ্রেস, ইউটিউবিং, টেকনোলজি বিভিন্ন টিপ্স এন্ড ট্রিক্স, ডিজিটাল স্কিল শিখতে চান তাহলে আমার ইউটিউব চ্যানেল আজই সাবস্ক্রাইব করে ফেলুন। কারন আমি প্রতিনিয়ত ডিজিটাল স্কিল বিষয়ক টিউটোরিয়াল পাবলিশ করে যাচ্ছি আমার চ্যানেলে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here