ব্লগিং কি? কিভাবে শুরু করতে হয়? ব্লগিং করে কিভাবে ইনকাম করা যায়?

ব্লগিং করে কিভাবে ইনকাম করা যায়

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ব্লগিং নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো। ব্লগিং কি, কিভাবে শুরু করতে হয়?, ব্লগিং করে কিভাবে ইনকাম করা যায়। এই বিষয়গুলো নিয়েই আজকের এই পর্বে আলোচনা করা হবে।

তো চলুন শুরু করা যাক।

ব্লগিং হচ্ছে একটি লেখালেখি করার পেশা। আপনার যদি লেখালেখি করতে ভালো লাগে তাহলে আপনি ব্লগিং সেক্টরে কাজ করতে পারেন। যেকোনো একটি বিষয়ের উপর যেটা আপনার ভালো লাগে সেটার উপর ওয়েবসাইট খুলে লেখালেখি করাকেই ইন্টারনেট এর ভাষায় ব্লগিং বলা হয়। মানুষের উপকারে আসে এমন বিভিন্ন ধরনের তথ্য শেয়ার ও ডেইলি লাইফের নানান দিক নিয়ে আলোচনা করার অন্যতম একটি জনপ্রিয় স্থান হলো ব্লগিং।

বর্তমানে এই ব্লগিং এর মাধ্যমে ইনকাম করা যায় বলে এর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। যে কোন শ্রেনী পেশার মানুষ যে কোন জায়গা থেকেই ব্লগিং শুরু করতে পারে। আপনার যদি একটি কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট কানেকশন থাকে তাহলে আপনিও ব্লগিং শুরু করতে পারেন।

এখন চলুন জেনে নেই ব্লগিং করে কিভাবে ইনকাম করা যায়?

ব্লগিং করে আপনি ৩ ভাবে ইনকাম করতে পারবেন।

১। নিজের ওয়েবসাইট খুলে সেখানে ভিজিটরদের এড দেখিয়ে
২। কোনো কোম্পানির হয়ে বা অন্যদের ওয়েবসাইটে লেখালেখি করে
৩। ফ্রিলান্সিং করে

নিজের ওয়েবসাইট খুলে সেখানে আপনি নিজের পছন্দের বিষয়গুলো নিয়ে ব্লগিং শুরু করে দিতে পারেন। এরপর যখন আস্তে আস্তে ভিজিটর আসবে আপনার লেখাগুলো পড়ার জন্য তখন আপনি সেই ভিজিটরদের বিভিন্ন উপায়ে মনিটাইজ করে ইনকাম করতে পারবেন। মনিটাইজ করার অনেক উপায় আছে , তারমধ্যে অন্যতম হচ্ছে গুগল এডসেন্স, স্পনসরসিপ। ওয়েবসাইট এর বিভিন্ন যায়গায় এড বসিয়ে, ভিজিটরদের সেই এড দেখিয়ে ইনকাম করা যাবে। এছাড়াও আপনার যদি কোনো প্রোডাক্ট থাকে তাহলে আপনি সেই প্রোডাক্ট ভিজিটরদের কাছে বিক্রি করে ইনকাম করতে পারবেন।

এখন আসি অন্যদের কোম্পানির হয়ে লেখালেখি করা

আপনার যদি নিজের কোনো ওয়েবসাইট না থাকে তাহলে আপনি অন্যদের কোম্পানিতে একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে জয়েন দিতে পারেন। তাদের কোম্পানির হয়ে বিভিন্ন কনটেন্ট তাদের ওয়েবসাইটে লেখালেখি করতে পারেন। নির্দিষ্ট কনটেন্ট এর উপর নির্ভর করে তারা আপনাকে মাসিক ভিত্তিতে অর্থ প্রদান করবে। এছাড়াও অনেক নিউজ পোর্টাল সাইট আছে যেখানে আপনি নিজের লেখাগুলো পাব্লিশ করতে পারেন। পরবর্তীতে যদি তারা আপনার কনটেন্ট এর কোয়ালিটি ভালো দেখে তাহলে আপনাকে একজন নিয়মিত রাইটার হিসেবে নিয়ে নিবে।

এরপর আসি ফ্রিলান্সিং সেক্টরে

আপনার যদি কনটেন্ট রাইটিং এ ভাল দক্ষতা থাকে , আপনি যদি একজন কনটেন্ট রাইটার এক্সপার্ট হয়ে থাকেন। যদি যেকোনো বিষয় আপনি লিখতে পারেন তাহলে আপনি ফ্রিলান্সিং করে ইনকাম করতে পারবেন। বর্তমানে এই কনটেন্ট রাইটিং এর মার্কেট তা অনেক বড়। প্রতিটা কনটেন্ট এর উপর ৫০-১০০$ পর্যন্ত পাওয়া যায় ক্লাইন্ট থেকে। কনটেন্ট রাইটিং করার জন্য অনেক ফ্রিলান্সিং মার্কেটপ্লেস আছে যেখানে আপনি এই দক্ষতাটিকে সার্ভিস হিসেবে সেল করতে পারবেন। যেমন ফাইভার, ফ্রিলান্সার, আপ ওয়ার্ক, ।

এছাড়াও কনটেন্ট রাইটিং এর জন্য আলাদা কিছু মার্কেটপ্লেস আছে যেমন আইরাইটার, ফ্লেক্সজব, পিপল পার আওয়ার অন্যতম। এখানে আপনি একজন প্রফেশনাল কনটেন্ট রাইটার হিসেবে জয়েন করতে পারেন। নিজের জন্য ভাল মানের একটি পোর্টফলিও তৈরি করে সেখানে আপনার বেস্ট লেখাগুলো আপ্লোড করে দিয়ে আপনি জবে এপ্লাই করতে পারেন।

এখন চলুন জেনে নেই কিভাবে ব্লগিং শুরু করবেন ?

জানা-অজানা বিভিন্ন বিষয়গুলো, অথবা সাম্প্রতিক কোন বিষয়সমূহ সহজ করে সবাইকে জানানো, কিংবা নিজের মতামত ও চিন্তাভাবনা প্রকাশ করার অন্যতম একটি মাধ্যম হলো এই ব্লগিং। বিভিন্ন স্পন্সরশীপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ও অ্যাডভারটাইসমেন্ট থেকে ইনকাম সৃষ্টি হওয়ার কারনে পুরো বিশ্বে এমনকি বাংলাদেশেও ব্লগিং এর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

আপনি যদি ব্লগিং শুরু করতে চান তাহলে অবশ্যই প্রাথমিকভাবে আপনার কিছু জিনিস প্রয়োজন হবে।

  1. একটি ডিজিটাল ডিভাইস যেমন:- এতা কোনো ট্যাব, ল্যাপটপ অথবা কম্পিউটার হতে পারে
  2. ইন্টারনেট কানেকশন
  3. এবং একটি প্রফেসসনাল ব্লগিং ওয়েবসাইট

প্রথমেই আপনাকে একটি প্রফেশনাল ব্লগিং ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে। এর জন্য প্রথমেই একটি ডোমেইন কিনতে হবে। যেকোনো একটি ব্লগ সাইট তৈরি করার শুরুতে প্রথম কাজটি হলো, একটি ব্রান্ডেবল, সহজে উচ্চারণ করা যায় এবং সবার যাতে মনে থাকে, এমন একটি ডোমেইন নাম নির্বাচন করতে হবে। এতে করে ব্লগ সাইটটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠবে এবং ভিজিটর তত বৃদ্ধি পাবে।

ডোমেইন নাম নির্বাচন করার পর একটি ভালো মানের হোস্টিং সার্ভিস ক্রয় করতে হবে। হোস্টিং সার্ভিস ক্রয় করার আগে অবশ্যই অন্য কাস্টমারদের রিভিউ, সাপোর্ট সার্ভিস, হোস্টিং পারফরমেন্স কেমন সেটা জেনে তারপর কিনবেন। কারন হোস্টিং যদি ভাল হয় তাহলে আপনার ওয়েবসাইট এর পারফরমান্স অনেক ভাল হবে।

ডোমেইন ও হোস্টিং নেওয়ার পর এখন ব্লগটি ডিজাইন করতে হবে। সেক্ষেত্রে প্রথমেই ওয়েবসাইট বিল্ডার হিসেবে আপনি ওয়ার্ডপ্রেস সিএমএস বাছাই করবেন। বর্তমানে ওয়ার্ডপ্রেস একটি জনপ্রিয় সিএমএস বা কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম যার মাধ্যমে আপনি কোনোরকম কোদিং জ্ঞান ছাড়াই ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেলতে পারবেন। তো যাইহোক , এখন হোস্টিং সিপ্যানেলে এই ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করে নিতে হবে। তারপর একটি থিম ইনস্টল করে প্রয়োজনীয় কাস্টমাইজ করে পছন্দমতো সাইট ডিজাইন করতে হবে।

বিষয়গুলো যদি অনেক কঠিন মনে হয় আপনার কাছে তাহলে চিন্তার কোনো কারন নেই। আপনি নিচের ভিডিও টি দেখে নিন যেখানে একদম স্টেপ বাই স্টেপ শুরু দেখানো হয়েছে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে কিভাবে আপনি একটি ব্লগিং ওয়েবসাইট তৈরি  করতে পারেন। আপনি চাইলে দেখে নিতে পারেন।

প্রফেসনাল ওয়েবসাইট তৈরি করার পর আপনার নিজের পছন্দের বিষয় নিয়ে কম্পিউটারে লিখে সেটা আপনার ওয়েবসাইটে পাব্লিশ করতে পারেন। কন্টেন্ট লিখার ক্ষেত্রে অবশ্যই তথ্যবহুল থাকতে হবে এবং অনেক সুন্দর করে উপস্থাপন করতে হবে।

ব্লগে কন্টেন্ট পাবলিশ করার পর সেগুলো বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে হবে। এজন্য আগে থেকেই সেই ব্লগের নামে সকল পপুলার সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলোতে অ্যাকাউন্ট এবং সাথে পেজ তৈরি করতে হবে। এরপর যখন আপনার ব্লগে অধিক সংখ্যক ভিজিটর আসা শুরু করবে। তখন আপনি গুগল অ্যাডসেন্স অথবা অন্য কোনো এড নেটওয়ার্ক কোম্পানিতে আবেদন করবেন। তারপর সেটা আপনার ব্লগ সাইটের সাথে কানেক্ট করে সেখান থেকে নিদির্ষ্ট পরিমাণ অর্থ আপনি প্রতি মাসে আয় করতে পারবেন।

এখন এখানে একটি প্রশ্ন আসে?

ভাইয়া আমার কোনো ল্যাপটপ বা কম্পিউটার নেই এবং ডোমেইন হোস্টিং কেনার টাকাও নেই তাহলে আমি কি ব্লগিং করতে পারব না?

উত্তর হচ্ছে হ্যাঁ অবশ্যই পারবেন। ব্লগিং করার জন্য কম্পিউটার বা ল্যাপটপ থাকার কোনো আবশ্যিকটা নেই। আপনি আপনার হাতের স্মার্টফোন টি দিয়েই ব্লগিং শুরু করে দিতে পারেন।

যেমন আমার কথা যদি বলি, আমার অনলাইনের যাত্রাই শুরু হয়েছিল স্মার্টফোন দিয়ে ব্লগিং করে। নিজের হাতের স্মার্টফোন দিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করে সেটা বিভিন্ন ব্লগ সাইটে পাব্লিশ করতাম। এবং তারা লেখার উপর ভিত্তি করে আমাকে অর্থ প্রদান করত। তো যাইহোক, ব্লগিং করার জন্য যে ওয়েবসাইট থাকা লাগবে এমন কোনো কথা নেই। তবে আপনি যদি ব্লগিং টাকে স্বাধীন পেশা হিসেবে বেছে নেন তাহলে নিজের একটি ওয়েবসাইট থাকা অতি উত্তম। এর ফলে আপনার ইনকাম এর পরিমানও বৃদ্ধি পাবে।

আশাকরি এখন আপনি ব্লগিং কি ? কিভাবে ব্লগিং শুরু করবেন, ব্লগিং করে কিভাবে ইনকাম করতে হয় ইত্যাদি সম্পর্কে একটু হলেও জানতে পেরেছেন। এরপরেও যদি আপনার কোনো প্রশ্ন থাকে এই ব্লগিং বিষয়ে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আমি গুরুত্ব সহকারে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো।

ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ওয়ার্ডপ্রেস, ইউটিউবিং, টেকনলজি বিভিন্ন টিপ্স এন্ড ট্রিক্স, ডিজিটাল স্কিল বিষয়ক টিউটোরিয়াল প্রতিনিয়ত আমার ইউটিউব চ্যানেলে পাবলিশ করে যাচ্ছি। আপনার যদি জিনিসগুলো শেখার আগ্রহ থাকে তাহলে এখনি আমার চ্যানেল টি সাবস্ক্রাইব করে ফেলুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here