ফ্রিল্যান্সিং কি? ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো? ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ সমূহ

ফ্রিল্যান্সিং

বর্তমান যুগে অনলাইন ইনকাম করার সবথেকে বড় একটি প্লাটফর্ম হচ্ছে ফ্রিলান্সিং। আর এই ফ্রিলান্সিং সেক্টরে কাজের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ধরা বাধা কোনো নিয়ম না থাকায় যেকেউ যেকোনো জায়গা থেকে ফ্রিলান্সিং করে অনলাইনে একটি সুন্দর ক্যারিয়ার গড়তে পারছে। তাই আজকের এই পর্বে আমরা ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো। ফ্রিল্যান্সিং কি, ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শেখা যায়, ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে কোন কাজগুলো সবচেয়ে বেশি চাহিদা ইত্যাদি এইরকম বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর আজ আমরা এই আর্টিকেলে একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জানবো।

তো চলুন শুরু করা যাক,

ফ্রিল্যান্সিং এর মৌলিক বিষয়বস্তু

ফ্রিল্যান্সিং কি?

প্রথমেই আমরা জানবো এই যে ফেসবুকে ডুকলেই ফ্রিল্যান্সিং, ফ্রিলান্সার শব্দগুলো দেখতে পাই আসলে এই ফ্রিলান্সিং বিষয়টা কি?

ফ্রিলান্সিং

ফ্রিল্যান্সিং একটি ইংরেজি শব্দ। যার মানে হচ্ছে মুক্ত পেশা। কারো অধিনে না থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করার পেশাকেই ফ্রিল্যান্সিং বলা হয়। আর যারা এই ফ্রিল্যান্সিং পেশায় জড়িত তাদেরকে ফ্রিলান্সার বলা হয়। যেমন, কেউ যখন কোনো কোম্পানিতে চাকরি করে তখন কিন্তু একটি ধরা বাধা নিয়ম থাকে। নিজের ইচ্ছামত কিছু করতে পারে না এবং চাকরি করার জন্য প্রতি মাসে ফিক্স একটি বেতন পেয়ে থাকে। কিন্তু ফ্রিলান্সিং সেক্টরে তা একদম ভিন্ন। ফ্রিলান্সাররা প্রতি মাসে একের অধিক জব করতে পারে এবং তাদের বেতন বা ইনকাম কখনো ফিক্স থাকে না। যতবার কাজ করবে ততবারই পেমেন্ট পাবে।

যেমন ধরুন একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার, সে এই মাসে ১০টি কোম্পানির জন্য ১০টি লোগো তৈরি করে দিলো। এই ১০টি লোগো তৈরি করার জন্য সে কিন্তু ১০বার পেমেন্ট পাবে। এখন প্রতিটা লোগোর জন্য যদি সে ৫০ ডলার করে নেয় তাহলেও কিন্তু মাস শেষে ৫০০ ডলার আয় হয়ে যাবে তার। আর এই কারনেই অন্যসব পেশা থেকে ফ্রিলান্সারদের ইনকাম যথেষ্ট পরিমাণ বেশি হয়ে থাকে। তবে ইনকামটা পুরোটাই স্কিল এবং এক্সপিরিয়েন্স এর উপর নির্ভর করে।

সুতরাং বলা যায়, ফ্রিলান্সাররা নিজেরাই নিজেদের বস। যখন ইচ্ছা কাজ করবে তখন ইনকাম হতেই থাকবে। আবার যখন কাজ করবে না তখন কোনোরকমের ইনকাম হবে না।

ফ্রিলান্সিং এবং আউটসোর্সিং এর মধ্যে পার্থক্য কি?

নতুনদের ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে একটি ভুল ধারনা জন্মায় সেটা হচ্ছে অনেকেই মনে করে ফ্রিলান্সিং এবং আউটসোর্সিং একই জিনিস। কিন্তু এটা আসলে পুরোপুরি সত্য না। ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং দুটোই ভিন্ন শব্দ।

আউটসোর্সিং শব্দটি ইংরেজি শব্দ আউটসোর্স থেকে এসেছে। আর এই “আউটসোর্স” এর বাংলা অর্থ হচ্ছে বাহিরের উৎস। মানে বাহিরের কোনো কোম্পানির কাজ চুক্তি সহকারে করে দেয়াকেই আউটসোর্সিং বলা হয়।

উইকিপিডিয়ার মতে, এটি একটি সাময়িক চুক্তি যেখানে একটি কোম্পানি কোনো কাজ যখন তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে করিয়ে নিতে পারেনা তখন বাহিরের অন্য কোনো কোম্পানি থেকে চুক্তি ভিত্তিক কাজটি করিয়ে নেয়।

উদাহরন দিয়ে বিষয়টা বললে আপনি আরো ক্লিয়ার হবেন।

যেমন ধরুন, বাংলাদেশে আপনার একটি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি আছে। এখন আমেরিকার একটি কোম্পানি রয়েছে যাদের একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার প্রয়োজন। আর তাই আমেরিকার কোম্পানি আপনার ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির সাথে একটি সাময়িক চুক্তি করবে যেখানে আপনার কোম্পানি তাদের জন্য ওয়েবসাইট তৈরি করে দিবেন। বিনিময়ে চুক্তি বাবদ আপনার কোম্পানিকে পেমেন্ট করে দিবে। এটাই হচ্ছে আউটসোর্সিং।

বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে আমরা নিজেরা এককভাবে যেটা করি সেটা হচ্ছে ফ্রিলান্সিং আর অপরদিকে ক্লাইন্টরা আমাদের দিয়ে কোনো কাজ করিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়াটাই হচ্ছে আউটসোর্সিং মানে অন্যকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেয়া।

তো এখন আশা করি বুঝতে পেরেছেন ফ্রিলান্সিং এবং আউটসোর্সিং এর মধ্যে পার্থক্য।

ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ সমূহ বা ফ্রিলান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে কোন কাজগুলো সবথেকে বেশি চাহিদাবহুল?

ফ্রিলান্সিং সেক্টরে হাজারো কাজ রয়েছে করার মত। তবে জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে শীর্ষে থাকা কয়েকটি কাজ এখানে আমি তুলে ধরবো।

  1. ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট: এটি হচ্ছে ওয়েবসাইট তৈরি করে দেয়ার কাজ। বর্তমানে এই কাজের অনেক চাহিদা। ইন্টারনেটে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান খুজে পাবেন না যাদের ওয়েবসাইট নেই। প্রায় সব কোম্পানির ওয়েবসাইট তৈরি করার প্রয়োজন হয়। আর তাই এই ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
  2. গ্রাফিক্স ডিজাইন: যেকোনো কোম্পানি চালু হলে প্রথমেই তাদের একটি লোগো প্রয়োজন হয়। যেটা তাদের কোম্পানিকে ব্র্যান্ড হিসেবে তুলে ধরে। এছাড়াও কোম্পানির প্রচারনার জন্য ব্যানার, বিজনেস কার্ড, পোস্টার, টিশার্ট এর বিজনেস করলে টিশার্ট ডিজাইন ইত্যাদির প্রয়োজন হবে। আর এই জন্য গ্রাফিক্স ডিজাইনের চাহিদা মার্কেটপ্লেসে প্রচুর।
  3. সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন ( SEO ): একটি ওয়েবসাইট তৈরি করলেই হয় না। সেই ওয়েবসাইটটা যাতে কেউ গুগলে সার্চ করলে খুজে পায় তার জন্য অবশ্যই SEO করতে হয় যাকে বলে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন। কিছু কিওয়ার্ড দিয়ে ওয়েবসাইটকে অপ্তিমাইজ করে ফেলা যাতে গুগলে কেউ সার্চ করলে প্রথম পেজে চলে আসে। এই কারনেই বড় বড় কোম্পানি SEO এক্সপার্ট হায়ার করে। তাই মার্কেটপ্লেসে এটার চাহিদাও অনেক।
  4. ডিজিটাল মার্কেটিং: বর্তমানে ইন্টারনেটকে ব্যবহার করে প্রচারনা করার জন্য প্রায় সব কোম্পানির একজন ডিজিটাল মার্কেটার প্রয়োজন হয়। ইন্টারনেটকে কাজে লাগিয়ে কাস্টমারদের কাছে পণ্য পৌঁছানোর জন্য ইমেইল-মার্কেটিং, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং, মার্কেট রিসার্চ, কাস্টমার সার্ভিস ফিডব্যাক ইত্যাদি করতে হয়। আর তাই মার্কেটপ্লেসে এই ডিজিটাল মার্কেটিং এর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

এগুলো ছাড়াও অনেক কাজ রয়েছে যেগুলো শিখে ফ্রিলান্সিং করা যাবে। আপনি ফ্রিলান্সিং মার্কেটপ্লেসে গিয়ে ব্রাউজ জব সেকশনে ক্লিক করলেই সব ক্যাটাগরি দেখতে পাবেন।

ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখব?

ফ্রিল্যান্সিং কি এটা তো জেনে গেলাম। এখন এই ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখব বা ফ্রিলান্সিং সেক্টরে কাজ শিখে ক্যারিয়ার কিভাবে গড়া যায় এই বিষয়টাই বিস্তারিত আলোচনা করবো।

ফ্রিলান্সিং

একজন প্রফেশনাল ফ্রিলান্সার হতে হলে অবশ্যই আপনাকে যেকোনো একটি বিষয় শিখতে হবে। যেকোনো বিষয় শিখেই ফ্রিলান্সিং করা যায়। এটা হতে পারে MS word/PowerPoint/excel আবার photo Editing এর মত সহজ বিষয় দিয়েই ফ্রিলান্সিং করা যায়। এছাড়াও অনেক কঠিন এবং বেশি চাহিদাবহুল বিষয় রয়েছে যেমন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, প্রোগ্রামিং, এপ ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন, এনিমেশন ইত্যাদি।

পড়তে পারেনঃ

  1. লেখাপড়ার পাশাপাশি অনলাইন থেকে ইনকাম করার ১২টি উপায়
  2. ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট করে ইনকাম করুন
  3. ডিজিটাল মার্কেটিং কি? চাকরির মার্কেটে ডিজিটাল মার্কেটিং এর চাহিদা

যেটাই শিখেন না কেন তবে অবশ্যই আপনাকে সেই বিষয়ে এক্সপার্ট হতে হবে। বিভিন্ন ফ্রিলান্সিং মার্কেটপ্লেস রয়েছে যেমন ফাইভার, ফ্রিলান্সার, আপওয়ার্ক এই তিনটি অনেক জনপ্রিয়। এই মার্কেটপ্লেসগুলোতে যাবেন, এরপর প্রত্যেকটি কাজ মনোযোগ দিয়ে দেখবেন এবং সাথে আইডিয়া নিবেন কোন কাজটি আপনি শিখতে পারবেন। মার্কেটপ্লেসে অনেক কাজ। সবগুলো শেখা তো সম্ভব না। এমন একটি বিষয় বাছাই করবেন যেটা করলে আপনার কখনো বোরিং লাগবে না, কখনো মনে হবে না আপনার বিরক্ত লাগছে। আর যদি বিরক্ত লাগে তাহলে আপনি সেই বিষয়টা নিয়ে বেশিদুর যেতে পারবেন না।

এখন চলুন আপনাকে কিছু বিষয় ধাপে ধাপে বলে দেই যেগুলো আমি ফলো করেছিলাম এবং সফল হয়েছি।

১। প্রথমেই যেই বিষয়টা বাছাই করবেন সেই বিষয়ের উপর ইউটিউব থেকে বেসিক ধারনা নিবেন। ওই টপিক নিয়ে যতগুলো চ্যানেল আছে সবগুলো লিস্ট করে রাখবেন এবং চ্যানেলে যত ভিডিও আছে সব দেখে ফেলবেন। আমি কি করেছিলাম? আমি যখন ফ্রিল্যান্সিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম তখন আমি আমার টপিক ইউটিউবে সার্চ করেছিলাম কে কে আমার টপিক নিয়ে ভিডিও তৈরি করে। এরপর সেই চ্যানেলগুলো থেকে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ ঘণ্টা ভিডিও দেখতাম। একমাস ভিডিও দেখার পর একটি ধারনা হয়ে গেছিলো আসলেই আমি সেক্টরে কাজ করে টিকে থাকতে পারবো কিনা।

২। এরপর জিনিসগুলো বুঝে বুঝে প্র্যাকটিস করার চেষ্টা করতে হবে। নতুন হওয়ার কারনে প্রথম দিকে অতটা ভালো লাগবে না। মনে হবে দুনিয়ার সবথেকে কঠিন কাজ এটা। কিন্তু এরপরেও চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।কারন প্রথমদিকে যদি ভালোভাবে প্র্যাকটিস করে ধারনা নেন তাহলে পরবর্তীতে কোনটি ভুল বা কোনটি সঠিক এটা খুব সহজেই ধরতে পারবেন।

৩। ইউটিউব থেকে ভালোভাবে ধারনা নেয়ার পর কোনো প্রিমিয়াম কোর্স আপনি করতে পারেন। কারন ফ্রিলান্সিং সেক্টরে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে গাইডলাইন এবং সাপোর্ট যেটা ইউটিউব থেকে পাওয়া যায় না। আর তাই আপনাকে অবশ্যই সাপোর্ট পাওয়ার জন্য কোনো আইটি ইন্সিটিউট থেকে কোর্স করতে হবে।

বাংলাদেশে অনেক আইটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে ৩/৪ মাস বিভিন্ন টপিকের উপর এককালীন কোর্স করানো হয়। আপনি সেখানে ভর্তি হতে পারেন। এছাড়াও অনলাইনে আজকাল অনেক এক্সপার্ট ফ্রিলান্সাররা তাদের এক্সপিরিয়েন্স থেকে বিভিন্ন কোর্স করাচ্ছে। আপনি চাইলে সেই কোর্সগুলো করতে পারেন। তবে যেখানেই কোর্স করেন না কেন, কোর্স করার আগে অবশ্যই সেই মেন্টরের স্কিল, এক্সপিরিয়েন্স, কোর্সের স্টুডেন্টের রিভিউ জেনে নিবেন তাহলে প্রতারনা হওয়ার থেকে আপনি বেচে যাবেন। যেহেতু আপনি এই ফ্রিলান্সিং সেক্টরে নতুন তাই প্রতারনা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

৪। কোর্সে ভর্তি হওয়ার পর এখন আপনাকে ফেসবুকে এমন কিছু গ্রুপ খুজে বের করতে হবে যেখানে আপনার বাছাই করা টপিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। সেই গ্রুপগুলোর লিস্ট করবেন এবং একটি একটি করে সেই গ্রুপগুলোতে জয়েন হবেন। সেখানে প্রতিটা পোস্ট পড়বেন, এক্সপার্টরা গ্রুপে যা যা শেয়ার করে সবকিছু সংগ্রহ করে রাখবেন এবং যদি কোনো সমস্যায় পড়েন তাহলে অবশ্যই গ্রুপে পোস্ট করবেন বিষয়গুলো জেনে নেয়ার জন্য।

কারন শুধুমাত্র কোর্স করেই কিন্তু আপনি একজন এক্সপার্ট ফ্রিলান্সার হতে পারবেন না, ইনকামও করতে পারবেন না। কোর্স করে আপনি ৭০% শিখে যাবেন কাজটি কিভাবে করে, আর বাকি ৩০% শেখার জন্য অবশ্যই আপনাকে সেই গ্রুপগুলোতে জয়েন হতে হবে, এক্সপার্টদের প্রোফাইল ফলো করতে হবে, গ্রুপে সবার সাথে একটি সম্পর্ক তৈরি করতে হবে।

৫। এইসব করার পর আপনাকে আরেকটি বিষয় শিখতে হবে সেটা হচ্ছে ইংরেজি। কারন ফ্রিলান্সিং সেক্টরে ইংরেজি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ইন্টারন্যাশনালি বায়ারদের সাথে কথা বলার জন্য অবশ্যই আপনাকে ইংরেজি ব্যবহার করতে হবে। তবে ভয় পাবার কিছু নেই। এখানে আপনাকে এডভান্স ইংলিশ শিখতে হবে না। শুধুমাত্র ক্লাইন্টদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য বেসিক ইংলিশ জানলেই হবে। ইংলিশ না জানলে যে আপনাকে কাজ দিবে না বা আপনি কাজ পাবেন না এমন কখনো হবে না। ক্লাইন্টদের কাছে আপনার স্কিলটা গুরুত্বপূর্ণ, ইংলিশ না। তারা আপনার কাছ থেকে সার্ভিস নিতে আসবে, ইংলিশ ভাষা শিখতে আসবে না। তাই ইংলিশ নিয়ে ভয় পাবেন না।

আরো পড়ুনঃ

  1. ফ্রিতে ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট শিখে ক্যারিয়ার গড়ুন
  2. প্রফেশনাল ওয়েব ডেভেলপার হতে কি কি শেখা লাগে?
  3. ফ্রিলান্সিং মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে পরিপূর্ণ গাইডলাইন

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই বেসিক ইংলিশ আপনি কোথা থেকে শিখবেন?

বেসিক ইংলিশ শেখার জন্য ইন্টারনেটে বিভিন্ন ব্লগ আছে, ইউটিউবে যেই বিষয় নিয়ে ফ্রিলান্সিং করবেন সেই বিষয়ে অনেক চ্যানেল আছে, এছাড়াও বেসিক ইংলিশ শেখার জন্য অনেক পিডিএফ বই আছে, এইরকম হাজারো রিসোর্স আপনি ইন্টারনেটে পেয়ে যাবেন যদি একটু রিসার্চ করেন।

তো যাইহোক, এই কয়েকটি ধাপ পুরন করলেই আপনি ফ্রিলান্সিং সেক্টরে কাজ করার উপযুক্ত হয়ে উঠবেন। শুধু এগুলো না, এছাড়াও আপনার নিজের ব্যক্তিগত বিভিন্ন টেকনিক, কৌশল প্রয়োগ করে আরো এক্সপার্ট হতে হবে। মনে রাখবেন, ফ্রিলান্সিং সেক্টরে যত বেশি স্কিল আপনি ডেভেলপ করতে পারবেন তত বেশি এই সেক্টরে এগিয়ে থাকবেন এবং টিকে থাকতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং কি হালাল?

সবশেষে কমন প্রশ্নের উত্তর দেই যেটা নতুনদের মধ্যে অনেকেই করে থাকেন সেটা হচ্ছে “ফ্রিল্যান্সিং কি হালাল নাকি হারাম?”

উত্তর হচ্ছে, ফ্রিলান্সিং করে যেই ইনকামটা হয় সেটা একদম পরিপূর্ণ হালাল ইনকাম। কারন আপনি ফ্রিলান্সিং করে যেই অর্থ ইনকাম করছেন সেটা আপনি নিজের মেধা, পরিশ্রম দিয়ে করছেন। নিজের শেখা স্কিল দিয়ে অন্যকে সহায়তা করছেন। এখানে হারামের কোনো অস্তিত্ব নেই।

আশা করছি ফ্রিলান্সিং কি, ফ্রিলান্সিং কিভাবে শিখতে হয়, আউটসোর্সিং কি, ফ্রিলান্সিং এর কাজসমুহ ইত্যাদি সম্পর্কে আপনার একটি ধারনা হয়েছে। নতুন কিছু জানতে পেরেছেন, শিখতে পেরেছেন। যদি কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই নিচে কমেন্ট করে জানাবেন। আমি উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবো।

এছাড়াও আপনি যদি ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ওয়ার্ডপ্রেস, ইউটিউবিং, টেকনোলজি বিভিন্ন টিপ্স এন্ড ট্রিক্স, ডিজিটাল স্কিল শিখতে চান তাহলে আমার ইউটিউব চ্যানেল আজই সাবস্ক্রাইব করে ফেলুন। কারন আমি প্রতিনিয়ত ডিজিটাল স্কিল বিষয়ক টিউটোরিয়াল পাবলিশ করে যাচ্ছি আমার চ্যানেলে।

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here